জাতীয়সারা দেশ

ভয়ঙ্কর নদীভাঙনে দিশেহারা মানুষ

নদীভাঙনে দিশেহারা মানুষ

শেয়ার করুনঃ

বর্তমানে ভয়াবহ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে দেশের কয়েকটি জেলার মানুষ এখন দিশেহারা। নদী গর্ভে একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে তাদের বসতঘর, হাট-বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাসপাতাল, সড়ক, ব্রিজ, বিস্তীর্ণ  জমি, গাছ-পালাসহ সব কিছু। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাসহ দেশের প্রদান প্রদান  এখন বেপরোয়া গতিতে ভেঙ্গে চলছে গ্রামের পর গ্রাম।প্রদান নদী গুলোর ক্ষুধা যেন কিছুতেই মিটছে না পদ্মার ভাঙন এখন যেন এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। তাতে করে শরিয়তপুরের নড়িয়ার মানুষ এখন সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকেই রাত কাটাচ্ছে  খোলা আকাশের নীচে । যাদের বাড়ী-ঘর ভাঙ্গনের মুখে তারা তাদের বসতঘর ভেঙে অন্য গ্রামে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যাদের এক সময় ছিল প্রচুর অর্থবিত্ত ,তারা এখন সামান্য  মাথা গোঁজার জায়গা জোটাতে পারছে না।প্রধান নদী পদ্মার গতি পথ পরিবর্তনের কারণেই স্বরণকালের ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে শরিয়তপুরের নড়িয়ায়। মূহূর্তের মধ্যে বড় বড় দালান কোঠা,স্কুল-কলেজের ভবন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক আগেই নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়ছে এখন মহা বিপদে। প্রকৃতির প্রতিশুদে অসহায় মানুষগুলো এখন বিপন্ন হতে বসেছে। নদী একূল ভাঙে ও কূল গড়ে। এতোদিন পদ্মার অব্যহত ভাঙনে পদ্মার উত্তর পাড়ের  মুন্সীগঞ্জ জেলার মানচিত্র অনেক ছোট হয়ে এসেছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে অনেক আগেই বিদায় হয়েছে অনেক ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থাপনা। বর্তমানে পদ্মার উত্তর অংশ মুন্সীগঞ্জের পাড়ে বিশাল চর জেগে উঠেছে। তাতে করে ভাঙন কিছুটা কমে এসেছে। তবে দোহার-নবাবগঞ্জ অংশ এখনও ভাঙ্গনের মুখে।

এ মুহূর্তে ভাঙন রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শরীয়তপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব গতকাল মুঠোফোনে আওয়ার বাংলাদেশ নিউসঃ২৪ কে বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আর এবার বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং পদ্মায় তীব্র স্রোত হবে, সেটা ধারণার বাইরে ছিল। ভাঙন ঠেকাতে দিন–রাত কাজ চলছে।

 দেশের নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর জন্য সরকারীভাবে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। তাদের মাথা গোজার জন্য নিতে হবে বড় প্রকল্প। জীবন ধারণের জন্য কর্মসংস্থান তাদের বড় একটি দাবী। সরকার দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলোকে ড্রেজিংরের আওতায় আনছে না। পানি প্রবাহের জন্য গভীর নদীর প্রয়োজন। তাতে নদীর পাড় সুরক্ষিত থাকতো। কিন্তু দায়সারা গোছের কিছ‚ নদী খনন করা হলেও দেশের অনেক নদীই এখন ভরাট হয়ে পড়েছে। তাই সরকার যদি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করে তাহলেও তাতে কোন ধরনের কার্যকর এবং ফলদায়ক হবে না। আমাদের নদীর পানি প্রবাহের স্বাভাবিকতা তৈরীর জন্য নদীগুলোর গভীরতা তৈরী করতে হবে। তার জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ।
লেখক: মেহেদী হাসান


শেয়ার করুনঃ
Show More

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button